দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিশীল করতে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য হয়রানিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে প্রশাসনিক জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক আমূল পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছে সরকার।
নতুন কোনো ব্যবসা বা শিল্প প্রতিষ্ঠান চালুর ক্ষেত্রে লাইসেন্স পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে আগে একটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে প্রায় বছর পার হয়ে যেত, সেখানে এখন মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সংস্কার বাস্তবায়িত হলে একজন উদ্যোক্তা ১৫তম দিনেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলার সুযোগ পাবেন।
রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাণিজ্য ও টেকসই সরবরাহ শৃঙ্খল বিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমাকে কেবল বাড়তি সময় পাওয়ার সুযোগ হিসেবে না দেখে, এটিকে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে নিতে হবে। এই অন্তর্বর্তী সময়কে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা তৈরি এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে কাজে লাগাতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সাম্প্রতিক বাজেটে ঘোষিত মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির ধারণাটি কেবল কথার কথা নয়, বরং এটিই বর্তমান প্রশাসনের নীতি নির্ধারণের মূল চালিকাশক্তি। ব্যবসার লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করা এবং নতুন বাজার সৃষ্টিতেই সরকার এখন সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের বড় ক্রেতা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা এখন টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, শ্রম অধিকার এবং জলবায়ু সহনশীলতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতায় যারা প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা রক্ষা করতে পারবে, তারাই আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকবে। বাংলাদেশও এই রূপান্তরের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ তদারকির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেলটি সরকারি-বেসরকারি খাত ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবে।
ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটি ইতিমধ্যে তাদের কাজ শুরু করেছে এবং প্রশাসনিক কাজের পুনরাবৃত্তি রোধ করে কোথায় সময় বাঁচানো সম্ভব, তা চিহ্নিত করেছে। আগামী জুলাই মাসে এই পুরো রূপরেখাটি কীভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
উচ্চপর্যায়ের এই ডিব্রিফিং সেশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেকজনিয়াক, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী সদস্য মো. হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।