শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

গাড়িচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু: চালকের আসন থেকে বেরোনো সেই কিশোর পুলিশ হেফাজতে

দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই সময় ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান। হঠাৎ একটি দ্রুতগতির প্রাইভেট কার ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়।

গাড়িচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু: চালকের আসন থেকে বেরোনো সেই কিশোর পুলিশ হেফাজতে

রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গাড়িটির চালকের আসন থেকে বেরিয়ে আসা সেই কিশোরকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দুর্ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছিলেন। পরে রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের পর তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় আবারও তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত শ্রমিক মেহেদী হাসানের (২৪) ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গতকাল রাতে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হলেও ওই কিশোরকে আসামি করা হয়নি। দুর্ঘটনার পর থেকে আকাশ মারক পলাতক রয়েছেন। গাড়িটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

এ দুর্ঘটনা নিয়ে দেশের প্রথম সারির একটি সংবাদমাধ্যমের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কিশোরটির সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রুহুল কবীর।

পুলিশ কর্মকর্তা রুহুল কবীর খান বলেন, ওই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরটি তাঁর নজরে এসেছে। এরপর পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই কিশোরের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। পরে গুলশানের বাসা থেকে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনের সংস্পর্শে আসা ওই কিশোরকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

গুলশান থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোর গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।

দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই সময় ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান। হঠাৎ একটি দ্রুতগতির প্রাইভেট কার ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়।

আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গাড়ির নিচ থেকে মেহেদীকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর সিসি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর গাড়িটি একটি সড়কবাতির খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। এরপর গাড়ি থেকে দুজন ব্যক্তি বেরিয়ে আসেন।

গাড়ির ডান পাশ, অর্থাৎ চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা এক কিশোরকে বের হতে দেখা যায়। অপর পাশ থেকে শার্ট পরা এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি নামেন। আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে এলে দুজনই গাড়ির পাশে অবস্থান করেন। একপর্যায়ে কিশোরটিকে সেখান থেকে সরে যেতে দেখা যায়। পরে ক্ষুব্ধ লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের কাছে দেন।

কিশোরটিকে প্রথম দফায় ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন বলেছিলেন, ক্ষুব্ধ জনতার হাতে যাতে ওই কিশোর ‘মবের শিকার’ না হয়, সে জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তার চাচার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরিদর্শক ইসমাইল হোসেন আরও বলেন, নিহত মেহেদীর বড় ভাই গাড়িটির চালক আকাশ মারকের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। আকাশ মারক ঘটনার পর থেকে পলাতক। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।

নিহত মেহেদী হাসানের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে। মামলায় ওই কিশোরের নাম উল্লেখ না করার বিষয়ে তাঁর ভাই মোক্তাদীর ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।