গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার জেরে নিজের সন্তানকে পরিবার থেকে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন আব্দুল ওহাব শেখ নামে এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি। সোমবার রাতে উপজেলার গওহরডাঙ্গা চৌড়ঙ্গি মোড়ের একটি আসবাবপত্রের দোকানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন।
আব্দুল ওহাব শেখ উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের গওহরডাঙ্গা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি জানান, তাঁর ছোট ছেলে সজীব শেখের সংগঠনটিতে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো পদবি না থাকলেও বন্ধুদের প্ররোচনায় পড়ে সে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে আসছিল।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের লিখিত বক্তব্যে ওহাব শেখ উল্লেখ করেন, তিনি নিজে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁর বড় ছেলে টুঙ্গিপাড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। অথচ তাঁর ছোট ছেলে সজীব শেখ অসৎ সঙ্গে পড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠনটির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, যদিও দলটিতে তার সুনির্দিষ্ট কোনো পদ নেই।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তিনি সজীবের এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বারবার বোঝানোর এবং সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও সে নিজের ভুল বুঝতে রাজি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্মতি নিয়ে তারা সজীবকে ত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন থেকে সজীবের কোনো ধরনের কার্যকলাপ বা আচরণের দায়ভার তার পরিবার নেবে না এবং তার ভালো-মন্দের সম্পূর্ণ দায় একান্তই তার নিজের।
এই সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।