সোমবার, 26 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

চ্যালেঞ্জিং হলেও এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে: সড়কমন্ত্রী

মাত্র তিন দিনের সংক্ষিপ্ত সময়ে প্রায় দেড় কোটি মানুষের যাতায়াত এবং এক কোটি কোরবানির পশু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপদে পরিবহন করা অত্যন্ত কঠিন কাজ হলেও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

চ্যালেঞ্জিং হলেও এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে: সড়কমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

মাত্র তিন দিনের সংক্ষিপ্ত সময়ে প্রায় দেড় কোটি মানুষের যাতায়াত এবং এক কোটি কোরবানির পশু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপদে পরিবহন করা অত্যন্ত কঠিন কাজ হলেও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুচারুভাবে সম্পন্ন করা নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ, তবে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটে এবং দেশের সাধারণ মানুষ সচেতনভাবে সহযোগিতা করেন, তবে একটি আরামদায়ক ভ্রমণ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।

শুক্রবার কুমিল্লার একটি স্থানীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই নীতিনির্ধারক এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড ও বাংলাদেশ রেলওয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে কুমিল্লায় বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রাণ হারানো ১১৯টি পরিবারের সদস্যদের মাঝে মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।

যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের তীব্র চাপ থাকায় এই রুটটিকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪০০ কিলোমিটার মহাসড়ককে আট লেনে রূপান্তর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সড়ক ছয় লেনে এবং আরও এক হাজার কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে, যার প্রধান কারণ মূলত চালকদের অদক্ষতা এবং ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অসচেতনতাও অনেকাংশে দায়ী। এই পরিস্থিতির উত্তরণে ও জানমালের ক্ষতি কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়কগুলো চিহ্নিত করে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার ফলে বর্তমানে দুর্ঘটনার হার অনেকটাই কমে এসেছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সড়ক পরিবহন বিভাগের সচিব ড. মো. জিয়াউল হক, বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।