জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বিশেষ আমন্ত্রণে চার দিনের এক সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছেছেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান তারেক রহমান।
এই যাত্রায় তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল নয়টা পাঁচ মিনিটে, যা বাংলাদেশ সময় ভোর ছয়টা পাঁচ মিনিট, প্রধানমন্ত্রী ও তার সীমিতসংখ্যক প্রতিনিধিবহরকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি নির্ধারিত ফ্লাইট নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে তাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা। এর আগে রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাপানের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তিনি।
আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার এই সফরের প্রধান লক্ষ্য হলো ঢাকা ও টোকিওর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা। সেই সঙ্গে মেট্রোরেলসহ দেশের চলমান অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোর খরচ ও ঋণের সুদহার কমানো, নতুন করে জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর মতো প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার জাপানের সরকারপ্রধানের সঙ্গে একটি শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন তারেক রহমান। এই আলোচনায় দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো মূল্যায়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের নতুন দিক নিয়ে বিশদ কথাবার্তা হবে। এর বাইরে, জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তিনি এবং জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।
সফরকালে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। এর মধ্যে জাইকা, জেট্রো, জেবিআইসি এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি জাপানের একটি এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিশ্বখ্যাত পোশাক প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর প্রধান কার্যালয় এবং বিশ্বসেরা গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটার উৎপাদন কারখানা পরিদর্শনের সম্ভাব্য কর্মসূচিও রয়েছে তার।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের কৌশলগত বন্ধন আরও গভীর হবে এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজে গতি আসবে। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট বা ইপিএ-এর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির বিষয়টি। এছাড়া এই সফরে কৃষি, মৎস্য খাত, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় সরকার কাঠামোর আধুনিকায়ন বিষয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।