লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ভারত থেকে আসা একটি বাঘের আক্রমণে নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। রোববার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতীরা হলেন— আমঝোল এলাকার শরীফা বেগম (২২), আফসার হোসেন (৪০) ও নজরুল ইসলাম (৩৫)। শরীফা আবদুল ওহাবের স্ত্রী। আফসার মৃত মনির হোসেনের ছেলে এবং নজরুল গমির উদ্দিনের ছেলে। ঘটনার পর তারা হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোনাব্বেরুল হক জানান, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে শরীফা ও আফসারকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক আবদুল মালেক বলেন, ‘রোববার বিকেল চারটার দিকে আমঝোল সীমান্তে আমার নাতনি শরিফা বেগম ছাগল খুঁজতে গিয়েছিল। সে জানায়, “ধানখেতের মধ্যে একটি বাঘ ছাগলটিকে খাচ্ছিল।” এরপর সে চিৎকার দেয়। এ সময় বাঘটি শরিফার ওপর হামলা করে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের কয়েকজন ছুটে আসে। তাদের আক্রমণের শিকার হয়।’
গুরুতর আহত শরীফা বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক বুলবুল আহমেদ বলেন, রাত আটটার দিকে দুজন রোগী হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে নারী রোগীর অবস্থা তুলনামূলকভাবে খারাপ। তার মাথা ও হাতে ক্ষত রয়েছে। পুরুষ রোগীর শরীরের পেছনের অংশে আঘাত লেগেছে।
বাঘের আক্রমণে আহত ব্যক্তিদের শারীরিক ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে চাইলে চিকিৎসক বুলবুল আহমদ বলেন, ‘হ্যাঁ, আশঙ্কা তো অবশ্যই আছে, যেহেতু এনিমেল বাইট। তারপরও ট্রিটমেন্ট চলতেছে। আমরা আমাদের প্রোটোকল অনুযায়ী সব ট্রিটমেন্ট দিচ্ছি।’
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে রোববার সন্ধ্যায় সংবাদকর্মীদের খুদে বার্তা পাঠায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এতে বলা হয়, ‘অদ্য ১৬০০ ঘটিকায় লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা থানার অন্তর্গত বনচৌকি বিওপির আওতাধীন আমঝোল নামের স্থানে ভারতের অভ্যন্তর থেকে একটি বাঘ বাংলাদেশের সীমান্তে প্রবেশ করে তিনজন সাধারণ মানুষকে আহত করে ফেলে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। উক্ত ঘটনাস্থলে ১৫ বিজিবি অধিনায়ক এবং বিজিবি টহল সেখানে উপস্থিত আছে।’
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে ফসলের খেতে বন্য প্রাণীটির খোঁজ করছেন। এ সময় তাদের কয়েকজনকে ‘বাঘ, বাঘ’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়।