বিএনপি সরকারের সঙ্গে ভারতের ‘গোপন আঁতাতের’ কারণে পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, পাহাড়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া প্রয়োজন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে পথসভা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ সফল করতে ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
পাহাড়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সমতলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এখন পাহাড়েও পৌঁছেছে। পাহাড় কেন অশান্ত হয়ে উঠছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ বলেন, সরকার পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। সেখানে কারা অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো কীভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে ও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। বিষয়টি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনার আমলের তিন সংসদ নিয়ে প্রশ্ন
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত তিনটি সংসদকে বিএনপি মুখে অবৈধ বললেও আইনিভাবে অবৈধ ঘোষণা করেনি বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, বিএনপি যেমন ওই তিনটি সংসদকে অবৈধ বলে, তাঁরাও সেগুলোকে অবৈধ মনে করেন। কিন্তু বিএনপি সরকার আইনিভাবে সংসদগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করেনি বলে এ বিষয়ে আইনি অবস্থান স্পষ্ট নয় বলে দাবি করেন তিনি।
পথসভায় নাহিদ ইসলাম বর্তমান সরকারকেও অবৈধ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, জনগণের ৭০ শতাংশের রায়ের প্রতি অবমাননা করা হয়েছে। এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে পুরোনো সংসদ ও সংবিধানের ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে নতুনভাবে দেশ পরিচালনা এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, পুরোনো সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি সবচেয়ে ভালো সংশোধনী আনলেও ভবিষ্যতে তা বাতিল হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকার ও অন্তর্বর্তী সময়কে অবৈধ ঘোষণা করার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের বিষয়টি উল্লেখ করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তাঁর বক্তব্য, আওয়ামী লীগ ওই সংশোধনী বাতিল করে জিয়াউর রহমানকে ইতিহাসে ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিল। ভবিষ্যতে তারেক রহমানের ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে না, তার নিশ্চয়তা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের স্বার্থেও দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে পুরোনো সংসদ, পুরোনো সরকার এবং পুরোনো সাংবিধানিক কাঠামোর ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে নতুন গণতান্ত্রিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
পথসভায় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলটির মেয়র প্রার্থী আসিফ মাহমুদ, রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, সালেহ উদ্দিন সিফাত ও নুসরাত তাবাসসুমসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।