ফেনীর ফুলগাজীতে জুনায়েদ নামের মাত্র দুই মাস বয়সী এক দুগ্ধপোষ্য শিশুকে আছাড় মেরে হত্যার নির্মম অভিযোগ উঠেছে তার আপন বাবার বিরুদ্ধে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ভূমি অফিস সংলগ্ন মোহাম্মদ আলী মেম্বার কলোনি এলাকায় এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহতের মায়ের করা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঘাতক বাবাকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
আটককৃত ব্যক্তির নাম মো. সুলতান, যিনি নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার কিতাব আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ধান কাটা শ্রমিক এবং ফুলগাজীতে স্ত্রী-সন্তানসহ ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
নিহত শিশুর মা রুনা আক্তারের অভিযোগ, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং প্রায়শই পারিবারিক কারণে তাকে ও শিশুসন্তানকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সুলতান ঘরে ফিরে ঘুমন্ত জুনায়েদকে কোলে তুলে নেন। এ সময় শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে মা পাশের দোকানে তরল খাবার কিনতে যান। দোকান থেকে ফিরে এসে তিনি সন্তানের শারীরিক অবস্থা অস্বাভাবিক দেখে জানতে চাইলে সুলতান দাবি করেন, শিশুটি কোল থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে গেছে, বড় কোনো সমস্যা হয়নি।
রুনার অভিযোগ, সন্তানের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তিনি দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে সুলতান তাতে বাধা সৃষ্টি করেন। আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে এবং মারধরের হুমকি দিয়ে স্ত্রীকে ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে মায়ের আকুল অনুনয়-বিনয়ের মুখে প্রথমে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু ঘটে। হাসপাতালে উপস্থিত পুলিশের কাছে কান্নাভেজা কণ্ঠে মা রুনা আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামীই ক্ষিপ্ত হয়ে শিশু জুনায়েদকে আছাড় মেরে হত্যা করেছেন এবং তিনি এই পাশবিক নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি চান।
অবশ্য অভিযুক্ত সুলতানের দাবি, সন্তানকে কোলে নিয়ে খেলার ছলে অসাবধানতাবশত হাত থেকে পড়ে গিয়ে সে মাথায় আঘাত পেয়েছে।
ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ মেহেদী হাসান জানান, কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করার পর থেকেই তার মা চিৎকার করে স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলতে থাকেন। একই সময়ে ফুলগাজী থানা থেকেও অভিযুক্তকে আটকের ব্যাপারে নির্দেশনা আসায় হাসপাতাল চত্বর থেকেই সুলতানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানভীর মাহমুদ জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল, তবে তার আগেই তার প্রাণহানি ঘটে। প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুটির মাথায় গুরুতর আঘাতের সুনির্দিষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত পিতাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আইনানুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।