আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে নিজেদের ‘শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করে কথিত ‘হত্যা তালিকায়’ যুক্ত করেছে ইউক্রেন।
দেশটির অতি-জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচিত সরকারি ওয়েবসাইট ‘মিরোৎভোরেৎস’-এর তথ্য থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বা রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য ও পরিচয় সাধারণত এই ওয়েবসাইটে সংরক্ষণ করা হয়।
মিরোৎভোরেৎসের ডাটাবেজে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি রাশিয়ার প্রতি ‘পদ্ধতিগত সমর্থন ও সহযোগিতার’ মাধ্যমে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এক ধরনের ‘মানবিক ও বেসামরিক আগ্রাসন’ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইনফান্তিনোকে ‘অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ’ খেতাবে ভূষিত করেন। এই সম্মাননাকে তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্তির অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে রাশিয়ার দলগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি মন্তব্য করেন, রুশ ফুটবল দলকে বয়কট করার ফলে ফুটবলের কোনো উন্নতি হয়নি; বরং এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘৃণা ও হতাশা বেড়েছে।
ইনফান্তিনোর এই বক্তব্য সামনে আসার পর ইউক্রেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেয়ি সিভিগা এক কড়া প্রতিক্রিয়ায় ফিফা প্রেসিডেন্টকে ‘নৈতিক আদর্শচ্যুত’ বলে আখ্যায়িত করেন।