জামালপুরের সরিষাবাড়ী এলাকায় এক সৌদিফেরত প্রবাসীর বসতবাড়িতে বৈবাহিক অধিকার ও স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে সাত দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন দুই নারী। উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর সরিষাবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগের তির ওই এলাকার বাসিন্দা আমবাজ আলীর ত্রিশ বছর বয়সী সন্তান নাজমুল ইসলামের দিকে। উদ্ভূত ঘটনার পর থেকে তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন।
এলাকাবাসীদের মারফতে জানা যায়, প্রবাসে থাকাকালে পৃথকভাবে দুই নারীর সাথেই প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হন নাজমুল। পরবর্তীতে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করে চলতি মাসের চার তারিখে কামরাবাদ এলাকার আব্দুল কদ্দুসের কন্যা করুনা খাতুনকে বিবাহ করেন তিনি। এই ঘটনার মাত্র তিন দিনের মাথায় অর্থাৎ সাত তারিখে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর এলাকার আব্দুল জলিলের মেয়ে জুলেখা খাতুনকেও তিনি জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ উঠে।
পরপর দুটি সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরেই ঘর ছাড়েন ওই যুবক। পরবর্তীকালে জীবনসঙ্গীর খোঁজে স্বামীর ভিটায় গিয়ে পরস্পরের মুখোমুখি হন ওই দুই নারী। নিজেদের দাম্পত্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে গত এক সপ্তাহ যাবত তারা সেখানে একত্রে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত, বৈদেশে পাড়ি জমানোর পূর্বেও ওই যুবক একটি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে বিচ্ছেদে রূপ নেয়।
সন্তানের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বাবা আমবাজ আলী জানান, এক নারীর সাথে পূর্বে সম্বন্ধের কথা চললেও তখন তা চূড়ান্ত রূপ নেয়নি। পরে সন্তান অন্যত্র সংসার গড়ে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে প্রবাসে পাড়ি দেয়। এবার দেশে ফিরে পরিবারের মতামত ব্যতিরেকে নিজের সিদ্ধান্তে এই পদক্ষেপ নিয়েছে সে।
অপরদিকে মা শাহনাজ বেগমের দাবি, অবস্থানরত এক নারী তার ছোট ছেলের স্ত্রীর আপন জ্যেষ্ঠ ভগিনী, যাকে কিছুদিন পূর্বে তার মাতা এ বাড়িতে রেখে গেছেন।
অবস্থানরত উভয় নারী জানান, পরস্পরের বিবাহের বিষয়টি তাদের পূর্বেই জানা ছিল। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি খাতায় রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেই তাদের ঘরে তুলেছেন নাজমুল। এখন তাদের দায়িত্ব এড়াতে তিনি আত্মগোপন করেছেন। তাদের কার সঙ্গে ওই যুবক সংসার টিকিয়ে রাখবেন সেই সিদ্ধান্ত নাজমুলকেই স্পষ্ট করার তাগিদ দেন তারা।
ব্যতিক্রমী এই ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিচ্ছেন।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, উদ্ভূত পরিস্থতিতে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় অভিযুক্ত নাজমুল ইসলামের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।