শুক্রবার, 16 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে নতুন ব্যবস্থায় এসব এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ কীভাবে হবে কিংবা কবে থেকে বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে নতুন ব্যবস্থায় এসব এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ কীভাবে হবে কিংবা কবে থেকে বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) ওয়েবসাইটে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তালিকাটি ওয়েবসাইটে ঠিক কবে প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নতুন কাঠামোয় তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলো কীভাবে কাজ করবে, সেটিও বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, কর্মীদের চাকরি না পাওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও নির্যাতনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া স্থগিত করে মালয়েশিয়া।

এর আগে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছিল মালয়েশিয়া। ওই ব্যবস্থায় লাইসেন্সধারী অন্য কোনো এজেন্সি মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তার কাছ থেকে কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র পেলেও সেটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে তালিকাভুক্ত ১০১টি এজেন্সির যেকোনো একটির মাধ্যমে প্রক্রিয়া করতে হতো।

নিয়োগের এই নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

এরপর চলতি বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রম অভিবাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ওই আলোচনায় বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা এবং সংশোধিত একটি চুক্তি প্রণয়নের লক্ষ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়া জানায়, বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটার আবেদন এফডব্লিউসিএমএসের ‘ই-কোটা’ মডিউলের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

এর মধ্যেই এফডব্লিউসিএমএসের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের রিক্রুটিং এজেন্সির নতুন তালিকা প্রকাশ করা হলো। তবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুরোপুরি চালু হওয়ার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। একই সঙ্গে আগের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকা অনিয়ম ও সমস্যাগুলো নতুন ব্যবস্থায় কীভাবে সমাধান হবে, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

এর আগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে সতর্ক করে জানিয়েছিল, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তি করা, কর্মীদের পাসপোর্ট সংগ্রহ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা কিংবা অর্থ গ্রহণ করা যাবে না।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছিল, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে যেকোনো ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বেআইনি বা অননুমোদিত হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ অবস্থায় ২৫টি বাংলাদেশি এজেন্সির নাম নির্ধারণ করা হলেও নিয়োগ কেবল এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই হবে কি না, চাকরির চাহিদাপত্র কীভাবে বণ্টন করা হবে কিংবা বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো কবে শুরু হবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তালিকাভুক্ত বাংলাদেশি এজেন্সিগুলো হলো—বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অন্বেষা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-ত্বাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড, আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, খান জাহান আলী ওভারসিজ, মেসার্স আল-সুপ্ত ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড, রিফা ইন্টারন্যাশনাল, ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল, আল-হায়াত ওভারসিজ, ভালুকা ওভারসিজ, ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড, জুয়েল রিংকু এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিংক, নেইবার অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং দ্য অ্যাংকর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন।

বাংলাদেশের পাশাপাশি কম্বোডিয়া, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের রিক্রুটিং এজেন্সির নামও তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।