দীর্ঘ প্রায় বিশ বছর পর ফিলিস্তিনের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সচল করতে একটি বিশেষ ডিক্রি জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
নতুন এই আদেশ অনুযায়ী, আগামী ২৮ নভেম্বর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আইনসভা বা সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর পাশাপাশি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের বিষয়েও রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালেও একবার নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ভোটগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ায় তৎকালীন সময়ে সেই প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।
প্রেসিডেন্টের নতুন এই নির্দেশনায় অধিকৃত পশ্চিম তীর, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এবং পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসরত সব ফিলিস্তিনি নাগরিককে সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে মাহমুদ আব্বাস দেশটির বিদ্যমান নির্বাচনী আইনে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন অনুমোদন করেন। নতুন সংশোধনীতে ফিলিস্তিনি লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের মোট আসন সংখ্যা ১৩২ থেকে বৃদ্ধি করে ২০০টি করা হয়েছে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রার্থীদের সর্বনিম্ন বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ বছর এবং ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি অনুগত থাকার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে। তবে হামাসসহ দেশটির অন্যান্য কয়েকটি প্রধান রাজনৈতিক দল এই শেষ শর্তটির তীব্র বিরোধিতা করে এটিকে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছে।
ভূ-রাজনীতিবিদদের মতে, বছরের পর বছর ধরে স্থবির হয়ে থাকা ফিলিস্তিনি শাসন কাঠামোর বৈধতা পুনরুদ্ধারে এই নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি হলেও এর সফল বাস্তবায়নে নানামুখী বাস্তব ও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে, বিগত কয়েক বছরের প্রলয়ঙ্কারী সংঘাতের কারণে গাজা উপত্যকার অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধসে পড়া এবং লাখ লাখ মানুষের ঘরবাড়ি হারানোর ফলে নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি ও নিরাপদ ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ওপর পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনিদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের অনীহা এবং বিভিন্ন ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ কোন্দল এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে প্রধান বাধা হতে পারে। ফলশ্রুতিতে, দীর্ঘ সময় পর আসা এই ভোটাভুটির বার্তা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মনে কিছুটা স্বস্তি দিলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে এক গভীর সংশয় ও অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।