ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৬৪টি হামলা চালিয়ে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের কয়েকটি ঘাঁটি দখলের দাবি করেছে দেশটির সরকারি সেনাবাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ৫৫৮ জন হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তারা। এ ছাড়া ধ্বংস করা হয়েছে বিদ্রোহীদের ১৩৫টি সামরিক যান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এসব তথ্য জানান ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল নুজাইলি।
তিনি জানান, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ফিল্ড আর্টিলারি, রকেট লঞ্চার ও স্নাইপার ইউনিট ব্যবহার করে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। এতে হুতিদের হামলা পরিচালনার সক্ষমতা এবং রসদ সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
আল নুজাইলি আরও জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় যুদ্ধক্ষেত্র ও শাবওয়া প্রদেশে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে সরকারি বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযানের ফলে বিদ্রোহীদের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নতুন করে শক্তি সংগঠিত করা ও সেনা মোতায়েনের সুযোগও কমেছে।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিম উপকূল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছেও হুতিদের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করেছে সরকারি বাহিনী। এ সময় বিদ্রোহীদের বিভিন্ন সমাবেশস্থল ও হামলা পরিচালনার অবস্থান লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়।
তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক অভিযানে হুতিদের মাঠপর্যায়ের কমান্ডারসহ মোট ৫৫৮ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পরিধি বাড়াচ্ছে।
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের পরাজিত করার লক্ষ্য নিয়ে গত ৫ অক্টোবর ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ শুরু করে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। এই অভিযান শুরুর পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ও হুতি মিলিশিয়াদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
অভিযানে সৌদি আরব বিমান সহায়তা দিচ্ছে। হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার এবং রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারি কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এ অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
এদিকে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতিরা। আল নুজাইলির দাবি, সোমবার শাবওয়া প্রদেশে একটি সেনা প্রশিক্ষণ শিবির লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বিদ্রোহীরা। এতে অন্তত ৫৮ জন নিহত হয়েছেন।