ফৌজদারি অপরাধের সমাধান পদত্যাগ নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত, যিনি হাসনাত আবদুল্লাহ নামে পরিচিত। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকারের কেউ অপরাধে জড়ালে তাঁকে দল থেকে পদত্যাগ করিয়েই বিষয়টি শেষ করা হচ্ছে। অথচ ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে পদত্যাগ কোনো সমাধান হতে পারে না। তিনি এই পদ্ধতিকে সরকারের ‘শর্ট-টার্ম প্যারাসিটামল থেরাপি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে এলাহাবাদে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে যদি মাদক নিয়ন্ত্রণে অস্ত্র হাতে মাঠে নামতে হয়, তাহলে বুঝতে হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহি দাবি করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং তাঁরও পদত্যাগ করা উচিত। পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যথাযথভাবে কাজ করলে ইশরাক হোসেনকে অস্ত্র হাতে রাস্তায় নামতে হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পেছনে পাভেল নামের এক ব্যক্তিকে লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে আর কী প্রত্যাশা করা যায়?
মিরপুরে হাসপাতাল ভাঙচুরের মতো ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পদত্যাগ করিয়েই বিষয়টি শেষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, কোনো মন্ত্রী খুন করলে তাঁকে পদত্যাগ করালেই কি সব শেষ হয়ে যাবে? সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কি শুধু আইন প্রয়োগ করা হবে?
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার ওপরও গুরুত্ব দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সবাই একই সমাজে বসবাস করেন। তাই সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ভোট দিয়ে তাঁকে নির্বাচিত করেছেন এলাকার মানুষ। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও তাঁর। তাই সবাইকে নির্বিঘ্নে পূজা উৎসব পালনের আহ্বান জানান তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন মন্দির পাহারায় তাঁর দলের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তখন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায় নিজের বলে জানান এই সংসদ সদস্য।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নোমান আহমেদ, উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা রোকসানা, এনসিপির দেবিদ্বার উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম সরকার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অনীল চক্রবর্তী এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম হৃদয়সহ এনসিপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
এ সময় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপগুলোর আয়োজকদের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।