ফরিদপুরের সালথায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউনিয়ন কৃষক দলের কার্যালয়সহ অন্তত ৮টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতাগ্রাম এলাকায় এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়, যাতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক মাতুব্বরের সমর্থক বাচ্চু চোকদারের কাছ থেকে একটি জমি ক্রয় করেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হেমায়েত মাতুব্বর। ওই জমির সীমানা নির্ধারণ ও মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে জমি পরিমাপের এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালীন হেমায়েত মাতুব্বরের নেতৃত্বে একদল লোক চড়াও হয়ে কৃষক দল নেতার সমর্থকদের ৮টি বসতবাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় রয়েছেন মিন্টু মুন্সি, সেলিম মুন্সি, হালিম মীর, মান্দার শেখ, মির্জা মুন্সি, সেলিম চোকদার, বাচ্চু চোকদার ও আসাদ শেখ। হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি আসবাবপত্র লুটপাট করে এবং পার্শ্ববর্তী কাগদী বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন কৃষক দলের অফিসটিও তছনছ করে দেয়।
এই সহিংসতায় গুরুতর আহত আব্বাস মাতুব্বর, আসাদ, পিকুল মাতুব্বর ও লিটন মীরকে উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কৃষক দল নেতা ফারুক মাতুব্বরের দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশ শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা থাকলেও হেমায়েত মাতুব্বরের অনুসারীরা অতর্কিতভাবে এই তাণ্ডব চালিয়েছে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।