শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ফতুল্লায় গার্মেন্টসে বয়লার বিস্ফোরণে আহত ১৫

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা অঞ্চলে একটি তৈরি পোশাক কারখানার বয়লার বিস্ফোরিত হয়ে কমপক্ষে ১৫ জন শ্রমিক জখম হয়েছেন।

ফতুল্লায় গার্মেন্টসে বয়লার বিস্ফোরণে আহত ১৫
ছবি : সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা অঞ্চলে একটি তৈরি পোশাক কারখানার বয়লার বিস্ফোরিত হয়ে কমপক্ষে ১৫ জন শ্রমিক জখম হয়েছেন।

এই দুর্ঘটনার জেরে কারখানার ভেতরে বিরাজমান নানা অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন মহাসড়ক আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর ফলে উক্ত সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যাবত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

আজ শুক্রবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে সদর উপজেলার অন্তর্গত পাগলা তালতলা এলাকার নির্জন গার্মেন্টস নামের একটি প্রতিষ্ঠানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

আহতদের মধ্যে আরবিন, জাকির, মঞ্জু, শাহীন, জয়, হৃদয়, সাবিনা, খাদিজা, নাসিমা, আল-আমিন ও অন্তরসহ আরও বেশ কয়েকজন রয়েছেন। তাদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

সেখানে উপস্থিত ব্যক্তি ও কারখানা কর্মীদের সূত্রে জানা যায়, সকালের দিকে হঠাৎ বিকট আওয়াজে বয়লারটি বিস্ফোরিত হলে পুরো ভবনের ভেতরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তাড়াহুড়ো করে সরতে গিয়ে এবং বিস্ফোরণের আঘাতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক জখম হন। ঘটনার রেশ ধরে শ্রমিকেরা তাৎক্ষণিকভাবে কারখানার বাইরে এসে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, উক্ত বয়লারটির ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে তারা এর আগেও কারখানা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। কিন্তু ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, যার চূড়ান্ত পরিণতি এই দুর্ঘটনা। পাশাপাশি কারখানার ভেতরের যাতায়াতের রাস্তায় পণ্যসামগ্রী স্তূপ করে রাখার কারণে পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল। ফলে আকস্মিক বিপদের সময় শ্রমিকেরা দ্রুত ভবন থেকে বের হতে গিয়ে চরম প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। এই অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ জানাতেই তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে অবস্থান নেন, যার ফলে রাস্তার দুই পাশে তীব্র যানজট তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

উত্তেজিত পরিস্থিতির একপর্যায়ে কারখানার পিএম জসীম উদ্দীন ও সুপারভাইজার মনিরকে আটকে রেখে মারধর করার ঘটনাও ঘটে।

অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা-পুলিশ এবং শিল্প পুলিশের সদস্যরা দ্রুত সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে ফতুল্লা থানা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক বাবুল আহমেদ আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করেন। মালিকপক্ষের সাথে কথা বলে শ্রমিকদের সকল অভিযোগ ও দাবিদাওয়া পূরণের ব্যাপারে তিনি সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা রাস্তা থেকে সরে যান এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।