মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

গণভোট বাস্তবায়ন হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে আওয়ামী লীগ: মঞ্জু

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে আওয়ামী লীগ—এমনটাই দাবি করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান এবং ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু।

গণভোট বাস্তবায়ন হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে আওয়ামী লীগ: মঞ্জু
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে আওয়ামী লীগ—এমনটাই দাবি করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান এবং ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফেনী শহরের খেজুরিয়ার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ‘না ভোট’ বা গণভোট বর্জনের পক্ষে প্রচার চালালেও ইতিহাসের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে এলেই তারা রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে। তিনি ১৯৭৫ পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের উদাহরণ টেনে বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল বলেই তারা রাজনীতিতে ফিরতে পেরেছে। তাই দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন হওয়া জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জু ‘জুলাই সনদ’-কে সকল রাজনৈতিক দলের জন্য একটি কল্যাণের পথ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সনদ বাস্তবায়িত না হলে দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামো ব্যাহত হবে এবং এতে ভবিষ্যতে সকল দলের জন্যই বিপদ ঘনীভূত হতে পারে। তিনি ভোটারদের কোনো দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য না দেখিয়ে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে ‘হ্যাঁ’ চিহ্নে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দূর করে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় এই সনদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় লুটপাটের বিচার প্রসঙ্গে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগের নিজেদের কল্যাণ এবং ঐতিহাসিক দায় থেকে মুক্তির জন্য এই অপরাধগুলোর বিচার হওয়া অপরিহার্য। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির মতো আরেকটি গণহত্যার দায় এখন দলটির ওপর চেপে বসেছে। এই দায়মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যের পথে বাধাগুলো দূর হবে না। তিনি সকল রাজনৈতিক শক্তিকে নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ফেনীর স্থানীয় বিভিন্ন সংকট নিয়েও নিজের নির্বাচনী পরিকল্পনা তুলে ধরেন মঞ্জু। তিনি জেলার ভয়াবহ বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, গ্যাস সংকট এবং যানজট নিরসনে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের স্থবিরতা কাটাতে তার জোটের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নান, সাবেক আমির একেএম সামছুদ্দিন এবং ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে গণভোটের প্রচার এবং নির্বাচনী কার্যক্রম সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।