শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

হাইতিতে সহিংসতায় নিহত ৭০, বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ

হাইতির অন্যতম প্রধান কৃষি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত আর্টিবোনিতে সশস্ত্র অপরাধী চক্রের বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা 'ডিফসার প্লাস'। ভয়াবহ এই তণ্ডবে আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। হামলাকারীরা কয়েকশ ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করায় কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাটির তথ্যানুসারে, ঘটনার ভয়াবহতা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি; যেখানে প্রাথমিকভাবে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল, সেখানে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ৭০ ছাড়িয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্

হাইতিতে সহিংসতায় নিহত ৭০, বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ
ছবিঃ সংগৃহীত

হাইতির অন্যতম প্রধান কৃষি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত আর্টিবোনিতে সশস্ত্র অপরাধী চক্রের বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা 'ডিফসার প্লাস'। ভয়াবহ এই তণ্ডবে আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। হামলাকারীরা কয়েকশ ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করায় কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাটির তথ্যানুসারে, ঘটনার ভয়াবহতা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি; যেখানে প্রাথমিকভাবে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল, সেখানে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ৭০ ছাড়িয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোরে জঁ-দেনি এলাকার পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে আকস্মিক হামলা চালায় গ্যাং সদস্যরা। ভোরের নীরবতা ভেঙে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ, লুটপাট এবং ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ফলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার ভোর পর্যন্ত চলা এই তাণ্ডবে জনপদগুলো কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ডিফসার প্লাস জানিয়েছে, জীবন বাঁচাতে প্রায় ৬ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন, যাদের অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে খাদ্য, পানীয় জল ও চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এর আগেও ওই অঞ্চলের নিকটবর্তী এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার জেরে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই সহস্রাধিক মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিবের মুখপাত্র এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ৮০ জনের মধ্যে হতে পারে এবং পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব সংস্থাটি।

এদিকে 'ডিফসার প্লাস' এবং 'কালেকটিভ টু সেভ দ্য আর্টিবোনিত' এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে যে, নিরাপত্তা বাহিনীর সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়া এবং পুরো অঞ্চলটিকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে কার্যত ছেড়ে দেওয়া কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের গ্যাং সহিংসতা দমনে সরকারের ধারাবাহিক ব্যর্থতাই এই ধরনের গণহত্যামূলক পরিস্থিতির পথ প্রশস্ত করছে। স্থানীয়রা এখন জানমালের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।