শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

হাকালুকি হাওরজুড়ে কৃষকের হাহাকার

হাকালুকি হাওরজুড়ে এখন হাসিমুখে ধান কাটার উৎসব হওয়ার কথা ছিলো। সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে কৃষকের আঙিনা ভরে ওঠার কথা। কিন্তু নিয়তির কি নির্মম পরিহাস!

হাকালুকি হাওরজুড়ে কৃষকের হাহাকার
ছবি : সংগৃহীত

‎হাকালুকি হাওরজুড়ে এখন হাসিমুখে ধান কাটার উৎসব হওয়ার কথা ছিলো। সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে কৃষকের আঙিনা ভরে ওঠার কথা। কিন্তু নিয়তির কি নির্মম পরিহাস! সিলেট বিভাগের দিগন্তজোড়ে ফসলের মাঠ এখন অথৈ পানির নিচে। যে ধান গোলায় তুলে সারা বছরের অন্নের জন্য নিশ্চিন্ত হওয়ার কথা, সেই ধান এখন পানির নিচ। বুকফাটা আর্তনাদে আকাশ ভারি হচ্ছে প্রতিটি কৃষকের।

সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন হাওর এলাকায় দেখা গেছে কৃষকের হাহাকার। অনেক জায়গায় ধান কাটার সময়টুকুও দেয়নি অকাল বন্যায়। আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকার চাষিরা। পানিতে ভিজে যাওয়া সেই ধান থেকে চাল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে চরম শঙ্কা।

‎‎হাকালুকি হাওর পারের কৃষক খছরু মিয়া (৫৪) আমজাদ হোসেন (৫৫) আলী হোসেনসহ আরো অনেকে বলেন, ‘আমাদের সারা বছরের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল আজ পানিতে তলিয়ে গেছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আর ধার-দেনা করে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। কিন্তু অকাল বন্যায় তা হারিয়ে গেছে। এখন পরিবারের (মূহে) মুখে কী দেব? আর ঋণই বা শোধ করব কীভাবে, সেই চিন্তায় (চউকে) চোখে (মুহে) মুখে ঘুম (নাই) নেই।’ এখন আমরা কিতা (খরতাম) করতাম রেবা।

‎টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে শত শত হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়ে গেছে।কৃষকের এই কান্না কেবল এক অঞ্চলের নয়, এটি সারা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি স্বরূপ।

‎জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার ১শ ৮৭ হেক্টর বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। ফসলও ভালো হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ টানা ভারি বর্ষণে ও পাহাড়ী ঢলের কারণে জুড়ী নদী দিয়ে হাকালুকি হাওরে পানি প্রবেশের কারণে বোরো ধান তলিয়ে যায়। এ পর্যন্ত প্রায় ১৭৪ হেক্টর ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে যাদের ধান পানিতে তলিয়ে গেছে সে সব কৃষকদেরকে সরকার উদ্যোগে প্রনোধনার ব্যবস্থা জন্য তালিকাভুক্ত করে প্রত্যেক কৃষকের পাশে থাকবে সরকার।

‎