দীর্ঘ কয়েক দশকের বৈরিতা কাটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউসে ঐতিহাসিক সংলাপে বসতে যাচ্ছেন ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা। আগামী সপ্তাহ অথবা তার পরবর্তী সপ্তাহেই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। তিনি এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, গত ৪৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে এমন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই আলোচনার মাধ্যমেই দুই দেশের মধ্যে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতেই দুই নেতা ইএসটি সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২ মার্চ থেকে লেবাননেও বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আইডিএফ-এর এই অভিযানে এ পর্যন্ত লেবাননে প্রায় ২ হাজার ২০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি। এছাড়া সংঘাতের কারণে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের এই সম্ভাব্য বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।