শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

হরিণ মার্কায় লড়বেন সেই কৃষক আব্দুল আলী

নির্বাচন এলেই স্বপ্ন দেখা শুরু করেন তিনি। অদম্য সাহসে জমা দেন মনোনয়ন। তবে বারবারই বাছাইয়ের টেবিলে এসে থমকে যায় সেই রঙিন স্বপ্ন। তবুও দমে যাননি মানিকগঞ্জের ঘিওরের কৃষক আব্দুল আলী বেপারী। অবশেষে আইনি লড়াই শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেলেন এই অদম্য লড়াকু।

হরিণ মার্কায় লড়বেন সেই কৃষক আব্দুল আলী
ছবিঃ সংগৃহীত

নির্বাচন এলেই স্বপ্ন দেখা শুরু করেন তিনি। অদম্য সাহসে জমা দেন মনোনয়ন। তবে বারবারই বাছাইয়ের টেবিলে এসে থমকে যায় সেই রঙিন স্বপ্ন। তবুও দমে যাননি মানিকগঞ্জের ঘিওরের কৃষক আব্দুল আলী বেপারী। অবশেষে আইনি লড়াই শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেলেন এই অদম্য লড়াকু।

৬৭ বছর বয়সি আব্দুল আলী বেপারী এবারও শুরুতে হোঁচট খেয়েছিলেন। এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের জটিলতায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালের নির্বাচনেও একই কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল হলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। তবে এবার তিনি দমে না গিয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেন।

আব্দুল আলী বেপারীর প্রথম পছন্দ ছিল 'হাতি' প্রতীক। তবে শেষ পর্যন্ত তার ভাগ্যে জুটেছে 'হরিণ'। আদালতের রায়ের কপি রোববার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন নাহার সুলতানার হাতে পৌঁছালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘ আইনি জটিলতা কাটিয়ে শেষ মুহূর্তে ভোটের লড়াইয়ে নামার ছাড়পত্র পেলেন তিনি।

ঘিওর উপজেলার বেড়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুল আলী বেপারী স্বশিক্ষিত হলেও রাজনৈতিক মাঠে তার অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। ২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি তিনবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করেছেন, যদিও জয় পাননি। সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক এক শতাংশ স্বাক্ষরের বিধানটিকে তিনি সাধারণ কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য বড় বাধা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

মনোনয়নপত্রের হলফনামা অনুযায়ী, আব্দুল আলী বেপারী প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেছেন। বারবার স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়লেও এবার হরিণ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনি মাঠে নামছেন তিনি। মানিকগঞ্জ-১ আসনের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এই প্রবীণ কৃষক এবার তার দীর্ঘদিনের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণে কতটা সফল হন, তা দেখার অপেক্ষায় মানিকগঞ্জবাসী।