ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বরাদ্দকৃত এই বিশাল তহবিলের একটি বড় অংশ ব্যয় করা হবে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েনের পেছনে। নতুন এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস অঞ্চলে ৫০০ জনেরও বেশি নতুন পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। এই বিশেষ বাহিনী ইহুদি অধ্যুষিত আবাসিক এলাকা, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর আশপাশে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল জোরদার করবে।
সরকারি নীতিনির্ধারকরা আশা করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত হবে। উল্লেখ্য, বিগত কয়েক মাসে যুক্তরাজ্যে ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ইহুদি সম্প্রদায়ের জরুরি সেবায় নিয়োজিত চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর ঠিক পরের মাসেই উত্তর লন্ডনে ইহুদিবিদ্বেষী মনোভাব থেকে এক ব্যক্তির ওপর ছুরিকাঘাত করা হয়।
পরপর ঘটে যাওয়া এসব সহিংস ঘটনার জেরে সে সময় দেশটির জাতীয় সন্ত্রাসবাদী হুমকির সূচককে ‘উল্লেখযোগ্য’ পর্যায় থেকে এক ধাপ বাড়িয়ে ‘গুরুতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিলে ঘোষিত ২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের যে বিশেষ তহবিল ছিল, নতুন এই বরাদ্দ তার অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হবে। আইনশৃঙ্খলার নতুন ছক অনুযায়ী, কেবল লন্ডন মহানগরেই প্রায় ৩০০ জন এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টার এলাকায় প্রায় ৮০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
এর বাইরেও যেসব কাউন্টিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইহুদি নাগরিক বসবাস করেন, সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও ৪৩ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি পৃথক বাজেট রাখা হয়েছে। বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সমাজজুড়ে বর্ণবাদী ও ইহুদিবিদ্বেষী মনোভাবের বিস্তার ব্রিটেনের মূল চেতনা ও মূল্যবোধের পরিপন্থী। নাগরিকের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখা এবং এই ধরনের উগ্রবাদী হামলা কঠোর হস্তে দমন করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
বাস্তবায়ন রূপরেখা অনুযায়ী, নতুন এই বিশেষ তহবিল থেকে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ একাই ৮৬ মিলিয়ন পাউন্ডের আর্থিক সহযোগিতা পাবে। পাশাপাশি দেশজুড়ে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষ গোয়েন্দা কার্যক্রম সচল রাখতে আরও ৫৯ মিলিয়ন পাউন্ড পৃথকভাবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।