ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উচ্চ সুরক্ষিত গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই বড় ধরনের আক্রমণের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলাকারীরা তিনটি ড্রোন এবং চারটি রকেট ব্যবহার করে এই অভিযান পরিচালনা করে, যার মধ্যে অন্তত একটি ড্রোন দূতাবাসের মূল সীমানার অভ্যন্তরে আছড়ে পড়তে সক্ষম হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দূতাবাস প্রাঙ্গণে বিস্ফোরণের পরপরই সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়। আক্রমণের সময় দূতাবাসের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং একটি ড্রোনকে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেও একটি রকেট হামলার চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তজনার মধ্যে ইরাকের মাটিতে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিধ্বংসী ও সুসংগঠিত আক্রমণ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই অভিযানে সব মিলিয়ে অন্তত পাঁচটি ড্রোন অংশ নিয়েছিল। দূতাবাসের এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বাগদাদের জাদরিয়া এলাকায় পাল্টা বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে শিয়া মিলিশিয়াদের জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস বা পিএমএফ-এর সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত একটি বাসভবনে দুটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।