শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম বাড়ছে, জাতিসংঘের সতর্কতা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটির আশঙ্কা, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম বাড়ছে, জাতিসংঘের সতর্কতা
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটির আশঙ্কা, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে।

এফএও-র প্রকাশিত মাসিক ‘খাদ্যমূল্য সূচক’ (ফুড প্রাইস ইনডেক্স) অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম ২.৪ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সূচক ১২৮.৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাবে শস্য, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্যতেল এবং চিনিসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের দাম ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা এমনকি সয়াবিন তেলের দামকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর পেছনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ মাসে মাংসের মূল্য সূচক ১২৭.৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি। দুগ্ধজাত পণ্যের দামও এক মাসের ব্যবধানে ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২০.৯ পয়েন্টে ঠেকেছে। চিনির দাম বাড়ার ক্ষেত্রেও জ্বালানি তেলের প্রভাব স্পষ্ট। বিশ্বের শীর্ষ চিনি রপ্তানিকারক দেশ ব্রাজিল এখন আখ থেকে চিনি তৈরির বদলে লাভজনক ইথানল উৎপাদনের দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বাজারে চিনির সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারে।

এফএও-র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো এক বিবৃতিতে জানান, যুদ্ধের শুরুতে খাদ্যমূল্যের ওপর প্রভাব সীমিত থাকলেও বর্তমানে তেলের দাম বাড়ায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যদিও পর্যাপ্ত শস্য মজুত থাকায় পরিস্থিতি এখনো কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে তিনি একটি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন। তোরেরো বলেন, ইরান সংঘাত যদি ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হয়, তবে উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকরা চাষাবাদ কমিয়ে দিতে পারেন বা ফসল পরিবর্তন করতে পারেন, যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।