বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে ১৩ মার্কিন সেনার মৃত্যু, আহত তিন শতাধিক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ভয়াবহতা বাড়ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দফতর পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত এই যুদ্ধে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৬৫ জন সদস্য। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে ১৩ মার্কিন সেনার মৃত্যু, আহত তিন শতাধিক
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ভয়াবহতা বাড়ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দফতর পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত এই যুদ্ধে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৬৫ জন সদস্য। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

তবে হতাহতের এই সংখ্যা নিয়ে তেহরান ভিন্ন দাবি করেছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের চালানো পাল্টা প্রতিরোধ হামলায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পেন্টাগনের দেওয়া হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিক নিহত হন। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এরপর থেকে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

অন্যদিকে, ইরান ও লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। পেন্টাগনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আহত ৩৬৫ জনের মধ্যে ২৪৭ জনই স্থলবাহিনীর সদস্য। এছাড়া নৌবাহিনীর ৬৩ জন, বিমান বাহিনীর ৩৬ জন এবং ১৯ জন মেরিন সেনা এই যুদ্ধে জখম হয়েছেন।

সংঘাতের ৩২তম দিনে গতকাল শুক্রবার ইরান দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। তবে ওই বিমান দুটিতে থাকা সেনাসদস্যদের ভাগ্যে কী ঘটেছে বা তারা হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ক্রমশ আরও দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী রূপ নিচ্ছে।