শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনায় লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইরানের ওপর মার্কিন হামলার ক্রমবর্ধমান আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনায় লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইরানের ওপর মার্কিন হামলার ক্রমবর্ধমান আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দুই প্রধান বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের মূল্যে বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, এদিন গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ২টা ৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বা ২ দশমিক ৬১ ডলার বেড়ে ৭১ দশমিক ০১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের ১ আগস্টের পর সর্বোচ্চ।

মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি কেবল একদিনের ব্যবধানেই সীমাবদ্ধ নয়; পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত চার বছরের মধ্যে কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ দাম বাড়ার রেকর্ড। অন্যদিকে, আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৫৪ ডলার বা ৪ শতাংশ বেড়ে ৬৫ দশমিক ৭৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। গত চার মাসের মধ্যে এটিই ডব্লিউটিআই ক্রুডের সর্বোচ্চ বাজারমূল্য।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। দেশটিতে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত শুরু হলে এই বিশাল সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পিভিএম-এর বিশ্লেষক জন ইভান্স সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন হামলার বিপরীতে ইরান যদি প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর পাল্টা আক্রমণ করে বা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়বে। উল্লেখ্য, এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়। সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার এই শঙ্কাই মূলত বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে, যার প্রভাব পড়ছে তেলের বাজারে।