ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মঙ্গলবার বিবিসির এক লাইভ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিয়মিতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই সামরিক অভিযানের ফলে ইরানের ১৫৫টিরও বেশি জাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
সেন্টকমের দেওয়া হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। মার্কিন হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদর দপ্তর, অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি। এছাড়াও ইরানের নৌবাহিনীর একাধিক জাহাজ ও সাবমেরিন লক্ষ্য করে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরে এক ভিন্ন চিত্র প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্বেগজনক তথ্য হলো, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৬৬৫ জনই নিরীহ বেসামরিক নাগরিক। ক্রমবর্ধমান এই প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।