আমেরিকার শীর্ষ পর্যায় থেকে ইরানের সাথে বর্তমান সমঝোতাকে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা ডেভিড স্যাকস তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক চুক্তিকে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক অর্জন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির চেয়ে আলোচনার টেবিলে সমস্যার সমাধান করাই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
একটি জনপ্রিয় পডকাস্ট অনুষ্ঠানে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে এই মার্কিন কর্মকর্তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে পদাতিক সৈন্য পাঠিয়ে যুদ্ধ জয়ের যে চিন্তা করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির বিশাল ভূখণ্ড এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করলে সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে অন্তত দশ লক্ষাধিক সৈন্যের প্রয়োজন পড়বে। আর এই কারণেই এমন যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ আমেরিকার জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে, যা প্রকারান্তরে একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের শামিল হবে। বর্তমান চুক্তিটির কার্যকারিতা প্রমাণ করার জন্য একে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত বলেও তিনি মনে করেন।
এ সময় ইরানের নির্বাসিত বিরোধী দলীয় ব্যক্তিত্ব রেজা পাহলভি এবং যারা তেহরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে নিয়মিত আওয়াজ তোলেন, তাদের তীব্র সমালোচনা করেন স্যাকস। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাইরে থেকে যারা যুদ্ধের উসকানি দিচ্ছেন, তারা নিজেরা সরাসরি সম্মুখ সমরে অংশ নিতে কতটা ইচ্ছুক। ক্যালিফোর্নিয়ার বিলাসবহুল এলাকায় বসে যুদ্ধের কথা না বলে, পাহলভি চাইলে তার অনুসারীদের নিয়ে নিজেই একটি প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলার চেষ্টা করে দেখতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উপদেষ্টা স্যাকস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের চেয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগকে কাজে লাগানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ওয়াশিংটন যাতে কোনোভাবেই অতীতের ইরাক কিংবা আফগানিস্তানের মতো অন্তহীন এবং বিপুল ক্ষতিকারক কোনো সামরিক চোরাবালিতে পুনরায় জড়িয়ে না পড়ে, সেই বিষয়েও তিনি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।