ইরানের বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারিকে অপ্রাসঙ্গিক ও অসহযোগিতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন।
মঙ্গলবার রেডিও নিউজিল্যান্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো সামরিক সংঘাতের প্রয়োজনীয়তা নাকচ করে দেন। লাক্সন জোর দিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত চলমান উত্তজনা নিয়ন্ত্রণ করা যাতে সংঘাত আর না ছড়ায়।
প্রধানমন্ত্রী লাক্সন সতর্ক করে জানান যে, সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য সেতু, পানির আধার বা অন্য কোনো বেসামরিক অবকাঠামোতে বিমান হামলা চালানো কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য যুদ্ধংদেহী মনোভাব পরিহার করে পরিস্থিতি শান্ত করা জরুরি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষ থেকে আমেরিকাকে সংঘাত বন্ধ করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হওয়া সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ড যেভাবে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক অবস্থানের বিরোধিতা করেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। লাক্সন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই সকল রাষ্ট্রের উচিত সাধারণ মানুষের সম্পদ রক্ষা করা। পেশিশক্তি প্রদর্শন না করে আলোচনার টেবিলে সমাধান খোঁজা এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করেন। অন্যথায় নিরপরাধ বেসামরিক জনগণের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নিউজিল্যান্ডের এই কঠোর অবস্থান এবং আসন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি ওয়াশিংটনের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, মিত্র দেশের এই পরামর্শকে হোয়াইট হাউস কতটা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে।