ইরানের কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক বা সামরিক ভিত্তি নেই এবং দেশটির নীতিনির্ধারকদের কেবল সমঝোতার লক্ষ্যেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি তেহরানের কড়া সমালোচনা করেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ সম্ভবত নিজেদের প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করতে পারছে না। হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ করে বিশ্ববাসীকে চাপে রাখা ছাড়া তাদের হাতে কার্যকর কোনো কৌশল নেই। তিনি দাবি করেন, ইরানি নেতারা কেবল আলোচনার টেবিলে বসার উদ্দেশ্যেই বর্তমানে টিকে আছেন। এর আগে অপর এক বার্তায় তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরানিরা রণক্ষেত্রে বীরত্বের চেয়ে ভুয়া প্রচারণা এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে অধিক পারদর্শী।
এদিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামীকাল একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠক যদি ফলপ্রসূ না হয়, তবে ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলোতে পুনরায় সমরাস্ত্র মোতায়েন করা হচ্ছে।
ইসলামাবাদের বৈঠক সফল হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে সব প্রস্তুতি পুনর্গঠন করছে। যুদ্ধজাহাজগুলোকে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও বিধ্বংসী মারণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করা হচ্ছে, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগে যে ধরনের হামলা চালিয়ে কোনো অঞ্চল তছনছ করে দেওয়া হতো, এবারের অস্ত্রগুলো তার চেয়েও বহুগুণ শক্তিশালী। যদি আলোচনার মাধ্যমে কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত না হয়, তবে এই সর্বাধুনিক অস্ত্রগুলো অত্যন্ত কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।