শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ‘সরিয়ে নেওয়া’ নিয়ে মুখ খুললেন নেতানিয়াহু

ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বর্তমান বিশ্বরাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ‘সরিয়ে নেওয়া’ নিয়ে মুখ খুললেন নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বর্তমান বিশ্বরাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশটির হাতে প্রায় ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রধান উপাদান হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

তেহরান তাদের এই কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করলেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র একে নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে।

এই ইউরেনিয়াম মজুত সরিয়ে নেওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখন জোর আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যেকোনো চুক্তির শর্ত হিসেবে এই ইউরেনিয়াম ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দিতে হবে। অন্যদিকে রাশিয়া এই ইউরেনিয়াম নিজেদের ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যতক্ষণ না এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না।

সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু তার এই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ইরানে এখনো পারমাণবিক উপাদান ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো সচল থাকায় যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই মজুতগুলো ইরান থেকে বের করে আনা এবং কেন্দ্রগুলো অকেজো করা অত্যন্ত জরুরি।

কীভাবে এই ইউরেনিয়াম সরানো সম্ভব হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী সোজাসুজি বলেন, সরাসরি সেখানে গিয়ে এগুলো বের করে নিয়ে আসতে হবে। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোভাবও অনেকটা একই রকম। তবে এ ক্ষেত্রে সামরিক অভিযানের চেয়ে একটি কার্যকর চুক্তির মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনে বেশি আগ্রহী নেতানিয়াহু। তিনি মনে করেন, সমঝোতার ভিত্তিতে যদি ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়, তবে সেটিই হবে শ্রেষ্ঠ উপায়।

নেতানিয়াহু আরও উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েল ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে আনতে পারলেও বিপদ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং দেশটি গোপনে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই স্থায়ী সমাধানের জন্য ইউরেনিয়াম মজুত শূন্য করা ছাড়া কোনো বিকল্প দেখছেন না তিনি।