ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্য কিংবা বিশ্বকে জিম্মি করে রাখতে পারে না উল্লেখ করে তেহরানকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক ম্যার্ৎস। বৃহস্পতিবার দেশটির লোয়ার স্যাক্সনির ম্যুনস্টারে একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এই কড়া বার্তা দেন। অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবাইলও এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
চ্যান্সেলর ম্যার্ৎস স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের সামরিক কর্মসূচি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। ইসরায়েল কিংবা জার্মানির মিত্রদের ওপর কোনো ধরনের হামলা আর বরদাশত করা হবে না। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় শর্তসমূহ পূরণ সাপেক্ষে ওই সামুদ্রিক পথে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে জার্মানি সামরিক সহায়তা দিতেও প্রস্তুত রয়েছে।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সামরিক পোশাকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চ্যান্সেলর আরও জানান, সাইপ্রাসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় কাউন্সিলের বৈঠকে তিনি ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়ানোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকলে তা বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করবে।
ম্যার্ৎস জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার প্রশাসন ওয়াশিংটনসহ সকল মিত্রদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। তিনি একে ট্রান্সআটলান্টিক স্বার্থ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্ব ভাগাভাগির ভিত্তিতেই এই সমন্বয় চলছে। বর্তমান অস্থির সময়ে একটি শক্তিশালী ন্যাটো এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদারিত্ব বজায় রাখাই জার্মানির প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি পুনব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা নিয়ে জটিলতার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন ম্যার্ৎস। এর প্রতিক্রিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মানিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর প্রচ্ছন্ন হুমকি দিলে চ্যান্সেলর ম্যার্ৎস ইরান ও হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে নিজেদের এমন কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান পরিষ্কার করলেন।