জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্ত এলাকায় এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
আজ বুধবার (১০জুন) সকাল আনুমানিক ৫টার দিকে রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর প্রধান পিলারের কাছাকাছি এলাকায় আনুমানিক ৬০ বছর বয়সী এক প্রবীণ ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় ভারতের নন্দীরচর ক্যাম্পের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিষয়টি কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যদের নজরে আসলে জামালপুর ৩৫ বিজিবির জওয়ান এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। বিজিবি ও স্থানীয়দের তীব্র বাধার মুখে বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হলে তিনি দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্য রেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) আটকা পড়েন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তজুড়ে চরম উত্তেজনা তৈরি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে এক জরুরি পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়। বৈঠকে জামালপুর ৩৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক এবং ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের একজন পরিদর্শক নিজ নিজ বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে ভারতে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তাকে শূন্য রেখায় রেখেই বৈঠক শেষ করে চলে যায়।
পতাকা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে এবং নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বিএসএফ সদস্যরা বারবার ওই প্রবীণ ব্যক্তিকে বাংলাদেশের সীমানায় ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালালেও বিজিবি ও স্থানীয়দের কঠোর নজরদারি ও প্রতিরোধের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকালে ভারত থেকে এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করার চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ যেন না ঘটতে পারে, সেজন্য স্থানীয় সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।