সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে বিএনপির সমালোচনায় সরব হয়েছেন আলোকচিত্রী ও সমাজকর্মী শহিদুল আলম।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তব্য দেন তিনি।
বক্তব্যে ড. শহিদুল আলম বলেন, ‘জনগণ যে পরিবর্তন চায় তা রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছে। জনগনের রায় মেনেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। সেই রায় মানলেও গণভোটের রায় মানতে কেনো এত টালবাহানা করছে বিএনপি’
সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, কেন তারা ক্ষমতায় এসেছে এবং কেন স্বৈরাচার পতন হয়েছে—তা মনে রাখা জরুরি। সংবিধানের সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থান বা রাজনৈতিক বাস্তবতার অনেক বিষয় সংবিধানে না থাকলেও জনগণ তা মেনে নিয়েছে।
তার ভাষায়, জনগণই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার উৎস। সেই জনগণের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতে স্বৈরাচার টিকে থাকার পেছনে জনগণের মতামত উপেক্ষার প্রবণতাই দায়ী ছিল।
একই কর্মসূচিতে ফোরামের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে মত দিলেও সংসদে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিনি আইনি জটিলতার মাধ্যমে গণভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ না করার আহ্বান জানান।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। পাশাপাশি সতর্ক করে বলা হয়, সংস্কার প্রক্রিয়ায় দেরি হলে তারা আবারও আন্দোলনে নামবেন।
এ কর্মসূচিতে জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী, লেখক, অ্যাক্টিভিস্টসহ শতাধিক নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে পুলিশের অনুরোধে নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মসূচি সমাপ্ত করা হয়।