সোমবার, 26 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জ্বালানি নিয়ন্ত্রণে এবার ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার

দেশের জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ এবং তেল নিয়ে যেকোনো ধরণের কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সব ধরণের যানবাহনের জন্য বিশেষ ‘ফুয়েল কার্ড’ প্রবর্তনের একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

জ্বালানি নিয়ন্ত্রণে এবার ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ এবং তেল নিয়ে যেকোনো ধরণের কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সব ধরণের যানবাহনের জন্য বিশেষ ‘ফুয়েল কার্ড’ প্রবর্তনের একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই ফুয়েল কার্ড মূলত একটি আধুনিক পেমেন্ট সিস্টেম হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা পেট্রোল বা ডিজেল কেনার পাশাপাশি তাদের জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ ও ব্যয়ের সঠিক হিসাব রাখতে পারবেন। ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের আদলে তৈরি এই কার্ডে কিউআর কোড যুক্ত থাকবে, যা ব্যবহার করে মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে ভারী যানবাহন—সব ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সীমার মধ্যে জ্বালানি সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন যে, দেশে তেলের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র অবৈধভাবে তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাম্পগুলোতে দ্রুত তেল ফুরিয়ে যাওয়ার পেছনে এসব মজুতদারদের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল এই কার্ড ব্যবস্থা চালু হলে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং কালোবাজারি বা অবৈধ মজুতদারদের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব হবে। প্রতিটি যানবাহনের জন্য তেলের কোটা নির্ধারিত থাকায় অপচয় কমবে এবং আমদানিনির্ভর এই খাতে রাষ্ট্রের ওপর চাপ হ্রাস পাবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রযুক্তিগত কাঠামোটি পুরোপুরি কার্যকর করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা থেকে দেশের সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে এই ডিজিটাল রূপান্তরকে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে সরকার।