শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জ্বালানি সংকটে ঠাকুরগাঁওয়ে বোরো চাষে অনিশ্চয়তা, সেচ ব্যাহত

তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাবে ঠাকুরগাঁও জেলার কৃষিখাতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সংকট। ডিজেল ও পেট্রোল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, ফলে চলতি বোরো মৌসুমের ফসল উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি সংকটে ঠাকুরগাঁওয়ে বোরো চাষে অনিশ্চয়তা, সেচ ব্যাহত

তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাবে ঠাকুরগাঁও জেলার কৃষিখাতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সংকট। ডিজেল ও পেট্রোল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, ফলে চলতি বোরো মৌসুমের ফসল উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেচ পাম্প চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় অনেক কৃষক জমিতে সময়মতো পানি দিতে পারছেন না। এতে বোরো ধান, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজি চাষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

সদর উপজেলার কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, পেট্রোলচালিত মেশিনের জন্য কাগজপত্র নিয়েও পাম্প থেকে তেল পাচ্ছি না। এখন বোরো ক্ষেতে পানি দেওয়ার সময়, কিন্তু জ্বালানির অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কৃষক জয়নাল অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তার দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মোটরসাইকেল চালকেরা আগে জ্বালানি নিয়ে যাওয়ায় সাধারণ কৃষকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

আরেক কৃষক মহসিন আলী জানান, সকাল থেকে অপেক্ষা করে মাত্র ২০০ টাকার তেল পেয়েছেন, যা দিয়ে এক বিঘা জমিতেও সেচ দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার বলছে সংকট নেই, তাহলে আমরা পাচ্ছি না কেন?

এদিকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে জ্বালানি মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে, যা কৃষি উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে জানান কৃষকেরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁওয়ে মোট প্রায় ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯৩ হেক্টর আবাদযোগ্য জমির মধ্যে ১ লাখ ৪৬ হাজার হেক্টরে সেচ সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে বিদ্যুৎচালিত এবং ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে ডিজেলচালিত সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে।

তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কৃষিতে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। তার মতে, পেট্রোলচালিত সেচ পাম্পের সংখ্যা সীমিত এবং এগুলোর মাধ্যমে খুব অল্প পরিমাণ জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ফিলিং স্টেশনে যারা ভিড় করছেন, তাদের অনেকেই সেচের অজুহাতে জেনারেটরের জন্য জ্বালানি নিচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন সেচের প্রয়োজন কম থাকবে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি উন্নতির আশা করা হচ্ছে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ছে। সময়মতো সেচ নিশ্চিত না হলে শুধু ফসল নয়, পুরো মৌসুমের উৎপাদন ব্যবস্থাই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।