মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

কলকাতায় ২ দিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, আবাসন সংকটে বাংলাদেশি পর্যটকরা

একটি হোটেলের ভয়াবহ আগুনের পর কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় শুরু হওয়া অগ্নিনিরাপত্তা অভিযান এখন বড় ধরনের আবাসন সংকট তৈরি করেছে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশের পর সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষ।

কলকাতায় ২ দিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল,  আবাসন সংকটে বাংলাদেশি পর্যটকরা

একটি হোটেলের ভয়াবহ আগুনের পর কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় শুরু হওয়া অগ্নিনিরাপত্তা অভিযান এখন বড় ধরনের আবাসন সংকট তৈরি করেছে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশের পর সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকে নিউমার্কেট এলাকায় অনেক পর্যটককে হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। আকস্মিকভাবে থাকার জায়গা হারিয়ে কেউ নতুন হোটেল খুঁজছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভও জানিয়েছেন অনেকে।

মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটে গত ৪৮ ঘণ্টায় এসব হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অডিট, পুলিশের অনুমোদন, অগ্নিসংকেত ব্যবস্থা এবং জরুরি সময়ে বের হওয়ার সিঁড়ির মতো মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর নিউমার্কেট থানার পুলিশ হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ে অভিযান শুরু করে। অভিযানে উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও অংশ নেন এবং কয়েকটি হোটেল বন্ধ করে দেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতার হোটেলগুলোর নিরাপত্তা পর্যালোচনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয় রাজ্য সরকার। কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও সিইএসসির সমন্বয়ে গঠিত কমিটিকে কলকাতার ৩ হাজার ৫০০টির বেশি হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহত্তর কলকাতার অন্যান্য এলাকার তুলনায় নিউমার্কেট এলাকায় এই অভিযান বেশি কঠোরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

গত শনিবার থেকে অভিযান জোরদার হওয়ার পর নিরাপত্তাবিধি না মানা কয়েকটি হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে বাংলাদেশিরা

হোটেল বন্ধের ঘটনায় নিউমার্কেট এলাকায় থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে কলকাতায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছেন। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজারই নিউমার্কেট এলাকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে কলকাতা ছাড়ছেন। কেউ নতুন থাকার জায়গা খুঁজছেন, আবার কেউ পরিকল্পনার আগেই দেশে ফেরার কথা ভাবছেন।

নতুন হোটেল পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে আগের তুলনায় বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। কোনো কোনো হোটেলে ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ও চাপ

নিউমার্কেটের পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশি পর্যটকদের ঘিরে ওই এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, কেনাকাটা ও নানা ধরনের সেবা ব্যবসা গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন কারণে এসব ব্যবসায় চাপ তৈরি হলেও পর্যটন ভিসা চালুর পর পরিস্থিতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আশা তৈরি হয়েছিল।

কলকাতার গ্রিন লাইন পরিবহনের কর্মকর্তা শ্যামল ঘোষ বলেন, সীমান্ত এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বাসগুলো পূর্ণ হয়ে কলকাতায় আসছে। কিন্তু পর্যটকদের থাকার মতো পর্যাপ্ত হোটেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই আশপাশের এলাকার হোটেলে চলে যাচ্ছেন, যেখানে ভাড়া দ্বিগুণ থেকে তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার জিরো টলারেন্স অবস্থান নিয়েছে। আমরা এই অবস্থানকে সমর্থন করি। তবে হোটেল মালিকরা কিছুটা সময় পেলে ভালো হতো।’

নিউমার্কেটের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পর্যটন ভিসা চালুর পর পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করলেও নতুন করে হোটেল বন্ধ হওয়া তাদের ব্যবসায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

তবে প্রশাসনের অবস্থান, পর্যটকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান ও ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।