ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পাওনা টাকা নিয়ে আলোচনার কথা বলে এক গৃহবধূকে ডেকে নিয়ে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ে অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে মামলা করার পর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশি তৎপরতায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন মো. লিটন, ইউসুফ হোসেন ফারুক এবং মো. ইয়াসিন। তারা প্রত্যেকেই স্থানীয় ইকুরিয়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী তার পূর্বপরিচিত নাদিম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়েছিলেন, যার জামিনদার ছিলেন অভিযুক্তদের একজন মো. লিটন। সেই পাওনা টাকার বিষয়টির সুরাহা করার কথা বলে গত বুধবার সন্ধ্যায় লিটন ও তার অন্য সহযোগীরা মিলে ওই গৃহবধূকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নেন।
পরবর্তীতে তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে হাসনাবাদ এলাকার একটি সুনসান ও নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লিটন প্রথমে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে লাঞ্ছিত করেন এবং পরে বাকি দুজনও ক্রমান্বয়ে একই পাশবিকতা চালান। এই অপরাধ সংঘটনের সময় বাইরে আরও কয়েকজন পাহারায় নিয়োজিত ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বর্বরোচিত ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য এবং মুখ খুললে সপরিবারে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল অপরাধীরা।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক অভিযানে তিন মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য সবার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।