পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে অন্তত ২২ জন পাকিস্তানি তালেবান সদস্য নিহত হয়েছে।
শুক্রবার দেশটির সামরিক বাহিনী এই সফল অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রদেশে সশস্ত্র হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে পাকিস্তান সরকার।
সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এর দেওয়া তথ্যমতে, খাইবার জেলায় পাকিস্তানি তালেবানদের সুনির্দিষ্ট অবস্থানের খবর পায় নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল যৌথভাবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। নিহতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিহত এই সশস্ত্র ব্যক্তিরা ওই এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল।
এদিকে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য প্রতিবেশী আফগানিস্তান ও ভারতকে দায়ী করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে এসব গোষ্ঠী হামলা চালাচ্ছে এবং ভারত তাদের নেপথ্য সমর্থন দিচ্ছে। তবে কাবুল ও নয়া দিল্লি উভয় পক্ষই পাকিস্তানের এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।
আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলে গত কয়েক মাস ধরেই সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলায় আরও এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীসহ দুই সশস্ত্র ব্যক্তিকে নির্মূল করার খবর জানিয়েছিল দেশটির সেনাবাহিনী। মূলত সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এই অভিযানগুলো চালানো হচ্ছে বলে জানায় আইএসপিআর।