২০০৮ সালের পর আবারও মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বড় রাজনৈতিক জনসভার আয়োজন হতে যাচ্ছে। তবে এবার সেই মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় নির্বাচনের আগে একই মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া।
এরপর আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে মৌলভীবাজারের মানুষ সরাসরি আর দেখতে পাননি দলটির এই নেত্রীকে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্বে আসেন তারেক রহমান।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের আইনপুর মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। ওই সমাবেশে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল। পরে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় সাড়ে তিন মাসের মাথায় আগামী ১৭ জুন প্রথমবারের মতো মৌলভীবাজার সফরে আসছেন তিনি। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে জেলা শহরে তার এই আগমন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কর্মসূচির স্থান হিসেবে শুরুতে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া মাঠ ও রাজনগর ডিগ্রি কলেজ মাঠ নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রশাসন ও দলের শীর্ষ নেতারা এরই মধ্যে দুটি স্থান পরিদর্শন করেন। তবে শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা ও স্থান সংকট বিবেচনায় রাজনগরের পরিবর্তে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ নির্ধারণ করা হয়।
গত শনিবার হঠাৎ স্থান পরিবর্তনের ঘোষণা আসে। পরে মাঠ পরিদর্শন করেন পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূনসহ প্রশাসন ও দলের নেতারা। পরদিন রোববার জেলা নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মাঠ পরিদর্শনে যান মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান।
এ সময় নাসের রহমান বলেন, ‘আমরা তিনটি মেজর জিনিস দাবি করেছিলাম, আমাদের মেডিকেল কলেজ, আমাদের শসসেরনগর বিমানবন্দর, ও সরকারি কলেজকে বিশ্বদ্যিালয়ে রূপান্তর। উন্নয়ন যেগুলো হবে সেগুলো তার মতো করে চলবে। আমরা বড় প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করব। তিনি বলেন, তিন মাস ক্ষমতায় আসার পর চারমাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার আসছেন। তিনি নিজ থেকেই এখানে আসছেন। আমরা যে দাবি-দাওয়াগুলো দিয়েছি এগুলো আমি উপস্থাপন করব ১৭ তারিখে।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি মৌলভীবাজারের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরবেন স্থানীয় নেতারা। এর মধ্যে রয়েছে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু, ঢাকা থেকে পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত বিশেষ ট্রেন চালু, কৃষির আধুনিকায়ন, চা শিল্পের উন্নয়ন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং মেডিকেল কলেজে রূপান্তর, শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, মৌলভীবাজার-বড়লেখা সড়ক চার লেন করা এবং বাইপাস সড়ক নির্মাণ।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, বৃটিশ আমলে শ্রীমঙ্গল হয়ে সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ চালু হলেও জেলা শহর এই সুবিধা থেকে বাদ পড়ে যায়। মৌলভীবাজার শহরকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জেলার সাতটি উপজেলা ও পাঁচটি পৌরসভার মানুষ প্রতিদিন আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে জেলা শহরে আসেন। কিন্তু মানুষের চাহিদা অনুযায়ী শহরের উন্নয়ন হয়নি। যানজট কমাতে এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বাইপাস সড়ক নির্মাণ জরুরি।
তিনি আরও বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও মৌলভীবাজার শহরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। অনেক সড়ক ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। নতুন সড়ক নির্মাণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়গুলো দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরা হবে।
এদিকে তারেক রহমানের সফর ঘিরে পুরো মৌলভীবাজার শহর ও আশপাশের এলাকায় সাজসাজ রব চলছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার, সরকারি স্থাপনায় রং করা ও পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।
জনসভার ভেন্যু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তৈরি করা হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার বর্গফুটের প্যান্ডেল ও মঞ্চ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আগামী ১৭ জুনের জনসভাকে ঘিরে জেলার মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।