বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

কোনো ব্যাংকই আর দলের হয়ে কাজ করতে পারবে না: গভর্নর

ইসলামী ব্যাংককে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতে একটি নির্দিষ্ট দল ও গোষ্ঠীর প্রতি অনুগত হয়ে কাজ করায় ব্যাংকটিতে ব্যাপক লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে এখন থেকে ইসলামী ব্যাংক আর কোনো দল, গোষ্ঠী বা পরিবারের হয়ে কাজ করতে পারবে না।

কোনো ব্যাংকই আর দলের হয়ে কাজ করতে পারবে না: গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংককে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতে একটি নির্দিষ্ট দল ও গোষ্ঠীর প্রতি অনুগত হয়ে কাজ করায় ব্যাংকটিতে ব্যাপক লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে এখন থেকে ইসলামী ব্যাংক আর কোনো দল, গোষ্ঠী বা পরিবারের হয়ে কাজ করতে পারবে না।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক–এ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড–এর পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে এটিই ছিল তাঁর প্রথম একক বৈঠক।

বৈঠকে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা অতীতে কীভাবে লুটপাট হয়েছে তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ব্যাংকটি সাম্প্রতিক সময়ে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সে বিষয়েও তারা আলোচনা করেন। ভবিষ্যতে আরও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কিছু নীতিগত সহায়তাও চান তারা।

জবাবে গভর্নর বলেন, একসময় ইসলামী ব্যাংক অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। কিন্তু মাঝখানে দীর্ঘ সময় ধরে সুশাসনের ঘাটতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ব্যাংকটিকে সুস্থভাবে পরিচালনা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।

সূত্র জানায়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স সংগ্রহের ক্ষেত্রে একসময় শীর্ষে ছিল ইসলামী ব্যাংক। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক থাকায় বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স তারা সংগ্রহ করত। এতে ব্যাংকটির বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ও আমানতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ত। তবে সম্প্রতি সেই প্রবাহে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

এ বিষয়ে গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংককে আবারও রেমিট্যান্স সংগ্রহে জোর দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে ডলারের চাহিদা বাড়ছে। তাই রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান বর্তমানে খেলাপি হয়ে পড়েছে বা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে, সেগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন গভর্নর। প্রয়োজনে নীতিমালার আওতায় কিছু ছাড় দিয়ে খেলাপি ঋণ নবায়নের মাধ্যমে কারখানা চালুর সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের ডেকে আলোচনা করারও পরামর্শ দেন গভর্নর।