লালমনিরহাটের পাটগ্রাম এলাকায় সীমান্ত অতিক্রম করে আসা এক ভারতীয় চালককে জিম্মি, শারীরিক নিগ্রহ ও অর্থ আত্মসাতের দায়ে বিচারিক আদালত তিন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।
অনাদায়ে অতিরিক্ত তিন মাসের জেলসহ প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বেআইনিভাবে আটকে রাখার দায়ে তাদের প্রত্যেকের পৃথক সাত বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়, যা মূল শাস্তির সাথে একই সময়ে কার্যকর করা হবে।
লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের দায়িত্বে থাকা বিচারক এস. এম. শফিকুল ইসলাম বিচারিক কাজ শেষে এই আদেশ ঘোষণা করেন।
দণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইসফারমারা এলাকার শফিকুল ইসলামের পুত্র সবুজ মিয়া, হাদীসপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর পুত্র রমজান আলী এবং ভাটিয়াটারী এলাকার শামছুল হকের পুত্র আরিফুল ইসলাম।
আদালতের নথি অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছর পূর্বে বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে পাথর পরিবহনকারী একটি ভারতীয় যান বিকল হয়ে পড়ে। ওই সময় পে-লোডার দিয়ে সেটি উদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগী চালক লক্ষ্মীনন্দর সিংকে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে করে একটি জনমানবহীন স্থানে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে নির্জন এলাকায় তাকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত করে সাথে থাকা ভারতীয় মুদ্রা কেড়ে নেওয়া হয় এবং জখম অবস্থায় ফেলে রেখে আসা হয়।
পরবর্তীতে টহলরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় অধিবাসীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। উক্ত ঘটনায় স্থানীয় এক গ্রাম পুলিশ সদস্য বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি নথিবদ্ধ অভিযোগ করেন।
পরবর্তী আইনি ধারাবাহিকতা শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিচারক অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে সাজা নির্ধারণ করেন। তবে সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে সবুজ নামের ব্যক্তি শুরু থেকেই গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন।
আদালতের এই সিদ্ধান্তে প্রসিকিউশন পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন যে, বিদেশী নাগরিকের ওপর হামলার ঘটনায় এ ধরনের কঠোর দণ্ড দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।