লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদক সংরায়পুরে মাদক কারবারিদের হামলায় গুরুতর জখম কলেজছাত্রের মৃত্যক্রান্ত বিরোধের জেরে একদল যুবকের নৃশংস হামলার শিকার কলেজ শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গ্রীন রোডের নিউ লাইফ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত আশরাফুল রায়পুর রুস্তম আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র এবং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরবংশী গ্রামের আজিজুল হকের সন্তান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মমিনুল হক নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি রাতে উত্তর চরবংশী গ্রামের ডালি কান্দি এলাকায় নাহিদ বেপারী ও শাহিন বেপারীসহ একদল যুবক আশরাফুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে পিটিয়ে জখম করার পাশাপাশি শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে গেলে স্থানীয়রা আশরাফুলকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় হাসপাতালে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
এই ঘটনায় ১৬ জানুয়ারি নিহতের পিতা বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় মামলা করেন। ঘটনার মূল কারণ হিসেবে জানা গেছে, কিছুদিন আগে শাহিনসহ তিনজনকে মাদকসহ আটক করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। শাহিনের ধারণা ছিল, আশরাফুলই পুলিশকে তথ্য দিয়ে তাদের ধরিয়ে দিয়েছেন। গত ১৪ জানুয়ারি জামিনে মুক্তি পেয়েই সঙ্গীদের নিয়ে প্রতিশোধ নিতে আশরাফুলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন শাহিন।
পুলিশ ইতিমধ্যে এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত শাহিন বেপারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে নাহিদ, হাবিব, সুফিয়ান ও শাকিলসহ মামলার অন্য আসামিরা এখনো পলাতক রয়েছেন। নিহতের পরিবার জানায়, মাদক সেবন ও কারবারের সঙ্গে জড়িতরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হাতুড়িসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে আশরাফুলের মৃত্যু নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পলাতক অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে।