জামালপুরের মাদারগঞ্জে এক বাস চালককে লাঞ্ছিত করা এবং এক ছাত্রদল কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার জেরে ঢাকা রুটে সব ধরনের বাস চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে আকস্মিক এই পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যার দিকে ঢাকাগামী রাজিব পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাস জোড়খালী এনপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জেরে বাসচালক মমিনুলের ওপর চড়াও হন কাউন্টার মাস্টার শফিকুল ও রহমতুল্লাহ। চালককে মারধরের পর তারা মাদারগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী পরিবহন সেবা বন্ধ করে দেন। ওই সময় মাদারগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের কর্মী বিজয় আহমেদ সেখানে উপস্থিত হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাসটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে ঘটনাস্থলে থাকা গুনারীতলা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সোহেল রানার সাথে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নিলে বিএনপি নেতা সোহেল রানা ক্ষুব্ধ হয়ে নিকটবর্তী একটি দোকান থেকে দেশীয় অস্ত্র এনে ছাত্রদল কর্মী বিজয়কে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে উপস্থিত লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিজয়কে উদ্ধার করে প্রথমে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। এই ঘটনার পর চালককে প্রহার ও ছাত্রদল কর্মীকে গুরুতর আহত করার প্রতিবাদ এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে মাদারগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া সব ধরনের দূরপাল্লার বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার খবর পেয়ে মাদারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কমল চন্দের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে।
ঘটনার বিষয়ে কাউন্টার মাস্টার শফিকুল জানান, আগের দিন রাতে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে বাস আসায় তিনি তার যাত্রীদের অন্য পরিবহনে তুলে দেন। মধ্যরাতে বাস পৌঁছানোর পর এই নিয়ে ফোনে কথা বলার সময় বাসচালক তাকে গালিগালাজ করেন। রবিবার সন্ধ্যায় ওই চালকের কাছে এই আচরণের জবাব চাইতে গেলে তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়, যার প্রেক্ষিতে তিনি চালককে একটি চড় মারেন। তবে পরবর্তী সহিংস ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সোহেল রানা জানান, কাউন্টার মাস্টার ও চালকের মধ্যকার মারামারির কারণে রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি বাসটি রাস্তার একপাশে সরাতে বললে ছাত্রদল কর্মী বিজয় তার সাথে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ব্যবহার করেন এবং তাকে সবার সামনে চড় মারেন। বয়সে অনেক ছোট ছেলের কাছ থেকে এমন আচরণ পেয়ে নিজের ক্ষোভ সংবরণ করতে না পেরেই তিনি তাকে কুপিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।
মাদারগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ মাখন জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে খুব দ্রুতই আলোচনা সাপেক্ষে পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।