বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

মালদ্বীপে অগ্নিকাণ্ডে বগুড়ার যুবকের মৃত্যু, দুশ্চিন্তায় পরিবার

মালদ্বীপের একটি প্রবাসী শ্রমিক নিবাসে ঘটা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নূর নবী সরকার নামে সাতাশ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বাদেগাংনই গ্রামের আব্দুস সামাদের সন্তান। প্রায় দশ বছর ধরে তিনি প্রবাস জীবনে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।

মালদ্বীপে অগ্নিকাণ্ডে বগুড়ার যুবকের মৃত্যু, দুশ্চিন্তায় পরিবার
ছবিঃ সংগৃহীত

মালদ্বীপের প্রবাসী শ্রমিক নিবাসে ঘটা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নূর নবী সরকার নামে সাতাশ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বাদেগাংনই গ্রামের আব্দুস সামাদের সন্তান। প্রায় দশ বছর ধরে তিনি প্রবাস জীবনে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।

আজ শনিবার দুপুরে শিবগঞ্জে নিহতের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে মাতম চলছে। পরিবারের একমাত্র পুত্রসন্তান এবং তিন বোনের প্রধান সহায়কে হারিয়ে স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এলাকাবাসী ও প্রতিবেশীরা শোকসন্তপ্ত এই পরিবারকে সমবেদনা জানাতে বাড়িতে ভিড় করছেন।

পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মারফত জানা গেছে, দীর্ঘ এক দশক মালদ্বীপে অবস্থানের পর আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় চিরতরে দেশে ফেরার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন নূর নবী। তবে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মালদ্বীপের দিঘুরা আইল্যান্ডে শ্রমিকদের থাকার ঘরে আকস্মিক আগুনের সূত্রপাত হলে তার সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নূর নবীসহ মোট পাঁচজন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সন্তান হারানোর শোকে মুহ্যমান বাবা আব্দুস সামাদ আহাজারি করে প্রশাসনের কাছে তার ছেলের মরদেহ দ্রুত স্বদেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি শেষবারের মতো তার সন্তানের মুখ দেখার আকুতি জানান। স্বজনদের ধারণা, সেহরির জন্য খাবার তৈরির সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বর্তমানে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না পাওয়ায় নিহতের পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, গত দশ বছরের প্রবাস জীবনে নূর নবী একবারও ছুটিতে বাড়ি আসেননি। এবার স্থায়ীভাবে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও নিয়তির পরিহাসে নিথর দেহ হয়ে ফিরতে হচ্ছে তাকে। এখন দ্রুততম সময়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।