বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক মহড়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দিনব্যাপী সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নেতৃত্বে নৌবহর মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাম্প এই নৌবহরকে ‘আর্মাডা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক মহড়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দিনব্যাপী সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নেতৃত্বে নৌবহর মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাম্প এই নৌবহরকে ‘আর্মাডা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানে সরকারবিরোধী গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হাজারো মানুষের মৃত্যুর অভিযোগের প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা এখনও খোলা রয়েছে। বহু মানুষ আটক রয়েছেন এবং তাদের ভাগ্য অনিশ্চিত।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বিমান শাখা এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জানিয়েছে, তারা কয়েক দিনব্যাপী প্রস্তুতি মহড়া পরিচালনা করবে। মহড়ার লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিমান দ্রুত মোতায়েন, বিভিন্ন ঘাঁটিতে ছড়িয়ে রাখা এবং দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধক্ষমতা বজায় রাখার সক্ষমতা প্রদর্শন করা। এছাড়া মহড়া আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা এবং নমনীয় সামরিক প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত।

তবে মহড়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ, স্থান বা অংশগ্রহণকারী সামরিক সম্পদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এটি নেওয়া পদক্ষেপ।

সেন্টকম জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নেতৃত্বে বড় নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এতে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও প্রায় ৫ হাজার নাবিক রয়েছে। এছাড়াও একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার রয়েছে, যা ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করে। যুক্তরাষ্ট্র এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রনও পাঠিয়েছে, যা ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইরানের ওপর সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিল। যুক্তরাজ্যও প্রতিরক্ষামূলক অংশ হিসেবে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।

ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বড় আর্মাডা’ রয়েছে। যা ভেনেজুয়েলার চেয়েও বড় শক্তি প্রদর্শন। তবে ইরান চুক্তি করতে চায়, তারা বহুবার যোগাযোগ করেছে।”

ইরানের মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও বিক্ষোভ চলাকালীন গণহত্যা বা গণফাঁসির হুঁশিয়ারির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। পরে ট্রাম্প বলেন, হত্যাকাণ্ড এখন সম্ভবত বন্ধ, তবে প্রয়োজনে হামলার বিকল্প খোলা আছে। তার ভাষায়, “আমাদের বিশাল নৌবহর ওই দিকে যাচ্ছে, হয়তো ব্যবহারই করতে হবে না।”

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, দমন-পীড়নে প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরান সরকার স্বীকার করেছে তিন হাজারের বেশি মৃত্যুর কথা। অন্য কিছু সংস্থা ৩০ হাজারের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা জানিয়েছে; তবে সেন্সরশিপ ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা কঠিন।

সেন্টকম জানিয়েছে, এই মহড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হবে। বাহরাইনের সঙ্গে ড্রোন ভূপাতিত করার প্রতিরক্ষামূলক অনুশীলনও অন্তর্ভুক্ত।

তবে কিছু আঞ্চলিক মিত্র এই সামরিক তৎপরতায় অস্বস্তি প্রকাশ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় তারা তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, সমস্ত কার্যক্রম স্বাগতিক দেশের অনুমোদন ও বেসামরিক–সামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, যাতে নিরাপত্তা, নির্ভুলতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান বজায় থাকে।