মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাউরবাগ অঞ্চলে ডাকাতির পরিকল্পনাকালে ডাকাত দলের সর্দার রুবেল মিয়াসহ তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই অভিযানে আটককৃতদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় পাইপগান ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার দিবাগত রাতে। বাউরবাগ এলাকার একটি কবরস্থানে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে ডাকাতদের ধাওয়া করলে আত্মরক্ষার্থে তারা গুলি চালায়। এতে ডাকাত দলেরই সদস্য সৈয়দ শামসুর রহমান আতিক ভুলবশত নিজের দলের গুলিতে আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান এবং বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ আতিককে আটক করে এবং তার কাছ থেকে একটি পাইপগান ও ২১ রাউন্ড তাজা গুলি জব্দ করে।
আটককৃত আতিকের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তের পরিধি বিস্তৃত করে। গত বৃহস্পতিবার সিলেট ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাত সর্দার রুবেল মিয়া এবং তার সহযোগী আশরাফ হোসেন আশরাফুল ওরফে আশাইকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের উত্তর বাড়ন্তি এলাকার একটি নির্জন কলাবাগান থেকে আরও একটি পাইপগান ও একটি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা উদ্ধার করে পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা অপরাধী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে সর্দার রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধেই ডাকাতিসহ ১১টি এবং আতিকের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা বিচারাধীন। গুলিবিদ্ধ আতিক বর্তমানে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি পাহাড়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই চক্রের সাথে জড়িত পলাতক অন্যান্য অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।