শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মৌলভীবাজারে প্রতিবেশী কর্তৃক কিশোরী ধর্ষিত, গর্ভপাতের ঘটনায় চাঞ্চল্য

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নে এক কিশোরী মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভিকটিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় বর্তমানে সে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মৌলভীবাজারে প্রতিবেশী কর্তৃক কিশোরী ধর্ষিত, গর্ভপাতের ঘটনায় চাঞ্চল্য
ছবি : সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নে এক কিশোরী মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভিকটিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় বর্তমানে সে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভিকটিম কিশোরী দীর্ঘদিন ধরে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নে তার খালার বাড়িতে বসবাস করে স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করে আসছিল। গত ১২ জানুয়ারি সম্পর্কে মামা ছমছু মিয়া (৫৫), পিতা- মৃত মছদ্দর আলী, ভিকটিমকে গৃহস্থালির কাজে সহায়তার কথা বলে তার ঘরে ডেকে নেয়। ঘরে প্রবেশ করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি দরজা বন্ধ করে দেয় এবং কিশোরীর মুখ চেপে ধরে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে।

ঘটনাটি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ায় ভয়ে ওই কিশোরী বিষয়টি গোপন রাখে। কিন্তু ঘটনার ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ওই কিশোরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে স্বজনরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে ধর্ষণের আলামত ও গর্ভপাতের কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

ভিকটিমের স্বজনরা জানিয়েছেন, কিশোরীটি চোখের সমস্যার জন্য সম্প্রতি একটি চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিল। তাদের ধারণা, সেই চিকিৎসার ওষুধ সেবনের প্রতিক্রিয়ায় এই গর্ভপাত ঘটে থাকতে পারে। তবে হাসপাতালের চিকিৎসকরা ধর্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করছেন।

ভিকটিম কিশোরী মৌলভীবাজার সদর থানাধীন আমতৈল এলাকার বাসিন্দা হলেও ছোটবেলা থেকেই রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নে তার খালার বাড়িতে বড় হয়েছে এবং সেখানে থেকেই স্থানীয় মাদরাসায় পড়াশোনা করত।

বিষয়টি পরিবারের লোকজন জানার পর চিকিৎসকের পরামর্শে অভিযুক্তকে কৌশলে হাসপাতালে আনার ব্যবস্থা করেন। স্বজনদের কথামতো অভিযুক্ত ছমছু মিয়া হাসপাতালে পৌঁছানো মাত্র সদর থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ তাকে আটক করে রাজনগর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ বিষয়ে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোর্শেদুল হাসান খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, রাতেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে মৌলভীবাজার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।