শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মৌসুমের প্রথম ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা

মৌসুমের প্রথম ভারি বৃষ্টিতে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম মহানগরীর বড় অংশ। নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক-মহাসড়ক ও অলিগলিতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমর সমান এবং কিছু জায়গায় বুক সমান পানিতেও ডুবে গেছে রাস্তা।

মৌসুমের প্রথম ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা

মৌসুমের প্রথম ভারি বৃষ্টিতে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম মহানগরীর বড় অংশ। নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক-মহাসড়ক ও অলিগলিতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমর সমান এবং কিছু জায়গায় বুক সমান পানিতেও ডুবে গেছে রাস্তা।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত টানা ঝুম বৃষ্টির পর নগরজুড়ে এই দুর্ভোগ তৈরি হয়।

জলাবদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পরিদর্শনে বিভিন্ন এলাকায় যান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সরেজমিনে জিইসি মোড়, কাতালগঞ্জ, প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সড়কের ওপর দিয়ে কোথাও কোমর সমান, কোথাও বুক সমান পানি প্রবাহিত হচ্ছে। স্কুল-কলেজ চলমান থাকায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভিন্ন এলাকায় আটকে থাকেন।

জিন্নাহ চৌধুরী নামে এক সাহিত্যিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, জলাবদ্ধতার কারণে তিনি আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় তিন ঘণ্টা ধরে আটকা আছেন।

এদিকে মেহেদীবাগের গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার মোবারক আলী জানান, সাধারণত যে এলাকায় পানি ওঠে না, সেই মেহেদীবাগ সড়কও এবার ডুবে গেছে।

জহুর হকার্স মার্কেটে বৃষ্টির পানির স্রোতে দোকানের মালামাল ভেসে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। হালিশহর এলাকায় প্রধান সড়কগুলোকে নদীর মতো প্রবাহমান পানি ঢেকে ফেলেছে, ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল-নালা ভরাট, অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ড্রেনে আবর্জনা জমে থাকায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্যও ভেসে যেতে দেখা গেছে। গণপরিবহণ কম থাকায় স্বল্প দূরত্বেও যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৯৬ ঘণ্টায় ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।