কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত রোবোটিক্সের সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে প্রযুক্তির মেলবন্ধন উদযাপনে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় সম্পন্ন হলো এক ব্যতিক্রমী বিয়ের অনুষ্ঠান। শহরের পুশকিন লাইব্রেরিতে আয়োজিত এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ‘রবার্ট’ ও ‘মাটিল্ডা’ নামের দুটি হিউম্যানয়েড রোবট বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়।
উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বর ‘রবার্ট’ মূলত দাপ্তরিক কাজ ও কনটেন্ট তৈরির কাজে পারদর্শী। অন্যদিকে কনে ‘মাটিল্ডা’ পেশায় একজন নৃত্যশিল্পী রোবট। চলতি বছরের সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামে এই রোবট দুটিকে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ব্যতিক্রমী এই আসরের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে উপস্থাপিকা মারিয়া পান্তিউখিনা জানান, আধুনিক বিশ্বের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এক অনন্য নজির হতে যাচ্ছে এই যুগলের বিবাহ। এরা কেবল যান্ত্রিক সংযোগেই আবদ্ধ নয়, বরং পারস্পরিক তথ্য ও জ্ঞান অন্বেষণ এবং সহযোগিতার অভিন্ন লক্ষ্যে একে অপরের পরিপূরক।
অনুষ্ঠানের মূল পর্বে রোবট দুটি পূর্বে প্রোগ্রাম করা নিজেদের বিশেষ বিয়ের শপথ বাক্য পাঠ করে। এ সময় রবার্ট তার সঙ্গীকে আশ্বস্ত করে জানায়, জীবনের প্রতিটি ‘অ্যালগরিদম’ বা ধাপে সে মাটিল্ডার বিশ্বস্ত সহযোগী হয়ে পাশে থাকবে। জবাবে মাটিল্ডাও রবার্টকে নিত্যনতুন আবিষ্কারে উদ্বুদ্ধ করার এবং সময়ের প্রতিটি চক্রে এই বন্ধন অটুট রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
আংটি বদলের ঐতিহ্যবাহী মুহূর্তটিতে কিছুটা ভিন্নতা এনে হাজির করা হয় ‘ডগমাটিক’ নামের একটি রোবট কুকুরকে। ম্যাসকট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই রোবটটিই নবদম্পতির কাছে বিয়ের ব্রেসলেট পৌঁছে দেয়।
সবশেষে যান্ত্রিক সংস্করণ সামঞ্জস্যতা, সিস্টেম সিনক্রোনাইজেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্মতি যাচাইয়ের পর উপস্থাপিকা আনুষ্ঠানিকভাবে রবার্ট ও মাটিল্ডাকে ‘রোবট দম্পতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
রোবট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আইটি-ইম্পেরিয়াল-এর শীর্ষ কর্মকর্তা আনা বাগদাসারিয়ান এই আয়োজন প্রসঙ্গে বলেন, হিউম্যানয়েড প্রযুক্তির জটিল ও উন্নত সমীকরণগুলো সহজভাবে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আধুনিক উত্তর-শিল্পায়িত সমাজে কাজের স্বয়ংক্রিয়করণ বা অটোমেশনের ফলে মানুষের শ্রম ও সময় বহুলাংশে বেঁচে যাবে। এতে করে মানবজাতি শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আরও বেশি মনঃসংযোগ করতে পারবে, আর রোবোটিক্স মূলত এই রূপান্তর প্রক্রিয়াকেই গতিশীল করছে।